বুধবার, ০৩ Jun ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: ভারতের রাজধানী দিল্লির মালাব্য নগর এলাকার একটি পাঁচতলা হোটেলে আজ বুধবার (৩ জুন) সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছে এবং আরো বেশ কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে বড় একটি অংশ বিদেশি নাগরিক, যারা মূলত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে এসেছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ সকাল আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে মালব্য নগরের হৌজ রানী এলাকার ‘মিকাসা ইন’ নামক হোটেলের বেসমেন্টে অবস্থিত একটি রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
হৌজ রানীর সংকীর্ণ গলির ভেতরে অবস্থিত এই হোটেলটিতে প্রায় ২৫টি রুম রয়েছে। দুর্ঘটনার সময় সেখানে প্রায় ৪০ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন, যাদের মধ্যে চিকিৎসার জন্য ভারতে আসা বিদেশি নাগরিকরাও ছিলেন। সকালবেলা হওয়ায় অতিথিদের বড় একটি অংশ তখন ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, জীবন বাঁচাতে বেশ কয়েকজন আবাসিক অতিথি জ্বলন্ত ভবনটি থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ছেন।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা এনডিটিভিকে জানান, জরুরি ফোন পাওয়ার পরপরই দুটি ওয়াটার ইঞ্জিন, দুটি ওয়াটার বাউজার এবং কুইক-রেসপন্স ভেহিকেলসহ বেশ কয়েকটি উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। সংকীর্ণ রাস্তার কারণে শুরুতে বেগ পেতে হলেও দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
হোটেলের রেস্তোরাঁয় কর্মরত প্রধান বাবুর্চি কেসর সিং নেগি এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, সকাল ৮টার দিকে আমি রান্নাঘরের একটি বৈদ্যুতিক চুলা চালু করার চেষ্টা করছিলাম। তখনই হঠাৎ করে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে বুঝতে পারি আগুন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে গেছে। আমি দ্রুত আমার সহকারীকে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসি এবং সবাইকে সতর্ক করার চেষ্টা করি। কিন্তু ততক্ষণে পুরো ভবন ধোঁয়ায় অন্ধ ও আগুনে ছেয়ে গেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি করে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে পোস্ট করে বলা হয়েছে, যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন তাদের প্রতি আমার সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সম্ভাব্য সহায়তা দিচ্ছে প্রশাসন।
তিনি আরো জানান, আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি করে দেওয়া হবে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এই প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক্স-এ তিনি লিখেছেন, শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। আমি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি এবং এই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে শক্তি ও সাহস জোগানোর জন্য প্রার্থনা করছি।
রেখা গুপ্তা জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, দিল্লি পুলিশ, ডিডিএমএ, ক্যাটস অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এবং অন্যান্য জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থার টিমগুলোকে প্রস্তুত করে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা শুরু করা হয়।
তিনি আরো যোগ করেন, তাদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রাঙ্গণ থেকে বেশ কয়েকজন মানুষকে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
দিল্লি সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। শোকের এই মুহূর্তে দিল্লি সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।